রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: আর্থিক খাতের ভয়াবহ বাস্তবতা উন্মোচিত
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-০৯-২০২৬ ০৫:৫৬:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৯-২০২৬ ০৫:৫৬:০০ অপরাহ্ন
জাতীয় সংসদে ঘোষিত অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনের এই হিসাব দেশের আর্থিক খাতের এক ভয়াবহ ও জঘন্য বাস্তবতাকে জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে। এককভাবে জনতা ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা মোট রাষ্ট্রায়ত্ত খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া অগ্রণী, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার মন্দ ঋণ প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অপশাসন এবং চরম অব্যবস্থাপনার শিকার।
দেশের জনগণের করের টাকায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোর এই দশা কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বণ্টন, ভুয়া জামানত, প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের তোষণ এবং দুর্বল তদারকির অনিবার্য ফল। বিশেষ করে কোনো কোনো একক ব্যাংকে এত বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুঞ্জীভূত হওয়ার অর্থ হলো—সেখানে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবে ব্যাংকিং খাতে যে ‘ঋণ খেলাপি অপসংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে, তার মাসুল এখন গুনতে হচ্ছে পুরো দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণকে।
খেলাপি ঋণের এই বিশাল বোঝার কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা মেটাতে শেষ পর্যন্ত সরকারি তহবিল অর্থাৎ জনগণের পকেটের টাকা ব্যবহার করতে হয়। এতে শুধু ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ ক্ষমতাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির গতিও থমকে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে এই হিসাব পেশ করে দায়িত্ব শেষ করতে পারেন না। আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে বিশেষ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রথমত, যেসব বড় বড় অর্থ আত্মসাৎকারী ও প্রভাবশালী ঋণখেলাপির কারণে ব্যাংকের এই করুণ অবস্থা, তাদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত আইনি আওতায় আনতে হবে। বিশেষ ঋণ আদালত বা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে খেলাপি অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া জোরদার করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিশেষে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও স্বাধীন পরিচালন কাঠামোর আওতায় আনা ছাড়া এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো বিকল্প নেই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স